ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের দাপট।
টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ১৫৩ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ যখন চালকের আসনে, তখন স্বাগতিকদের ব্যাটিং নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং। তার মতে, তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নামার আগে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের মধ্যে নার্ভাসনেস কাজ করবে।
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন (01778998433)
প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। হাসান মাহমুদ একাই নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। দ্বিতীয় দিনও অস্ট্রেলিয়ার জন্য স্বস্তির কিছু ছিল না। এবার ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তানজিদ হাসান।
নিজের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির আগ্রাসী ব্যাটিং থেকে বেরিয়ে এসে ধৈর্যের অনন্য উদাহরণ দেখান এই ওপেনার। পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ক্রিজে থেকে ১৯৭ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। মারেন আটটি চার ও একটি ছক্কা। মিচেল স্টার্কের বলে ক্যাচ দিয়ে থামার আগে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন (01778998433)
তবে বাংলাদেশের এই বড় লিড শুধু তানজিদের ব্যাটেই আসেনি। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হকের সঙ্গে ১০২ রানের জুটি গড়েন তিনি। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন আরও ৯৩ রান। শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ৬৬ রানের জুটিও দলকে এগিয়ে নেয়।
দ্বিতীয় নতুন বলে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৪.৫ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন স্বাগতিকদের তিন পেসার। তিনটি ক্যাচই দ্বিতীয় স্লিপে নেন স্টিভ স্মিথ। এর মাধ্যমে টেস্টে উইকেটকিপার নন এমন ফিল্ডার হিসেবে সর্বোচ্চ ক্যাচের তালিকায় জো রুটকে ছুঁয়ে ফেলেন তিনি।
কিন্তু তাতেও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামেনি। মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ ২৪.৩ ওভার একসঙ্গে ব্যাট করে অবিচ্ছিন্ন ৪৩ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন। মিরাজ ৩২ এবং হাসান ১৩ রানে অপরাজিত আছেন।
ফলে ১৫৩ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিনে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেটও এখন তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে শুধু রান তাড়া বা লিড কমানোর চ্যালেঞ্জ নয়, নিজেদের মানসিক শক্তি প্রমাণের পরীক্ষাও অপেক্ষা করছে।
পন্টিংয়ের ভাষায়, ‘এখন আমরা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারের চরিত্র ও মানের একটি সত্যিকারের পরীক্ষা দেখতে যাচ্ছি।’
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন (01778998433)
শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ১০১ রানের ইনিংস নিয়ে কথা বলার সময় অস্ট্রেলিয়ার স্লেজিংয়ের প্রসঙ্গ ওঠে। দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করার সময় অজি ক্রিকেটাররা তাকে কোনোভাবে বিরক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন কি না, জানতে চাওয়া হয় তানজিদের কাছে।
জবাবে তানজিদ জানান, অস্ট্রেলিয়ার এমন আচরণের জন্য তিনি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন। উইকেট না পেলে অস্ট্রেলিয়া বোলিংয়ের পাশাপাশি মুখের কথাতেও কঠিন সময় তৈরি করবে, এটা তার জানা ছিল।
তানজিদ বলেন, ‘আসলে আমি এটার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। আমি জানি ওরা যখন উইকেট পাবে না তখন ওরা অনেক কঠিন সময় দিবে, সেটা বোলিং করে হোক বা মুখে কথা বলে হোক। ওরা কিছুটা করেছে, তবে খুব বেশি না। যেহেতু আমি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম, তাই আমি বিষয়টাকে অতটা গুরুত্ব দেইনি।’
অস্ট্রেলিয়ানরা স্লেজিং করলেও সেটি তার ব্যাটিং পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি বলেই জানান তানজিদ। বরং নিজের কাজেই মনোযোগ রেখে একের পর এক বল মোকাবিলা করেছেন তিনি। আর সেই ধৈর