ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা: ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে খেলাফত মজলিস ও বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতাসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও ১৪- ১৫ জনকে।
আজ সোমবার ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন নিহত মো. সিজানের (২২) মা শিল্পী বেগম।
ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম দ্য ডেইলি স্টার বলেন, মরদেহ দাফনের পর নিহতের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি। আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
বাসা থেকে তুলে নিয়ে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
আসামিরা হলেন—স্থানীয় মসজিদের ইমাম, আল ফালাহ নামে স্থানীয় একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংগঠক ও খেলাফত মজলিসের সদর থানা শাখার সাবেক সহসভাপতি কাউছার আহাম্মেদ কাসেমী (৪০), জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি (৫০), ওলামা দলের ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক জিলানী ফকির (৫৫), একই এলাকার বাসিন্দা আজহার (৫৫), সাইদুল (৪২) ও আলম (৩৮)।
এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪- ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত শনিবার বিকেলে অনিক (২৮) নামে এক যুবককে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে মারধর করেন অভিযুক্তরা। অনিকের ভাষ্য, পরে তারা সিজানকে তার বাসার সামনে থেকে ধরে নিয়ে যান। এরপর দুজনকে রাস্তার পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে স্টিলের পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।
এ সময় সিজান চিৎকার করলে অভিযুক্তরা তার মুখে কালো কাপড় বেঁধে মারধর করেন।
খবর পেয়ে সিজানের মা শিল্পী বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু এরপরও সিজানকে মারধর করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে আহত সিজানকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, সিজানের মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় ভাঙচুর করেন।
এদিকে, স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা পশ্চিম মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা ও আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সদস্য। তারা সংগঠনের নামে এলাকায় প্রায় ‘মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী’ ‘অভিযান’ চালান। এর আগেও এ সংগঠনের নামে তারা একাধিক ব্যক্তিকে ধরে এনে কার্যালয়ের সামনে মারধর করেছেন।
এসব ঘটনার কয়েকটি ভিডিও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও পোস্ট করেন অভিযুক্ত কাউছার আহাম্মেদ।
সিজান ও অনিককে আল ফালাহ সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পেটানোর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
সিজানের মৃত্যুর পর একটি ভিডিওতে স্থানীয়দের উদ্দেশে অভিযুক্ত কাওছার আহমেদকে বলতে শোনা যায়, ‘যার কাছে যা আছে, তা নিয়ে নেমে যেতে হবে। ঐক্য থাকলে বাংলাদেশের প্রশাসন… আমাদের কিছু করতে পারবো না। পাবলিক যদি মেরে ফেলে, তাহলে কি অন্যায় হবে? ইনশাল্লাহ কোনো মামলা-হামলা কিচ্ছু হবে না। এভাবে সবাই এক থাকবেন।’
গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলন ডেকে কাওছার আহমেদ বলেন, সিজানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও চোরাকারবারি এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। শনিবার নতুন করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠলে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে।
সেখানে আল ফালাহর উপদেষ্টা ও ওলামা দল নেতা জিলানী ফকির বলেন, সিজানকে পেটানোর ঘটনায় আমাদের সংগঠনের কেউ জড়িত নন।
তবে আজ অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাউছার কাসেমী ও জিলানী ফকিরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি।