• বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

জুরাইনে হকার উচ্ছেদে অভিযান ডিএসসিসি ও ডিএমপির

জেলা প্রতিনিধি / ২৭ Time View
Update : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

‎ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের যৌথ উদ্যোগে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

আজ সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর জুরাইন রেলগেট থেকে জুরাইন বালুর মাঠ বাজার ও তার আশপাশের এলাকায় এই অভিযান চলে। এই অভিযানে ঢাকা-মাওয়া সড়কের ওপর গড়ে ওঠা হকারদের অস্থায়ী দোকান, ও রাস্তার ওপর নির্মিত দোকানের বর্ধিতাংশ ও সরকারি জায়গায় নির্মিত দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর ওয়ারী বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে প্রধান রাস্তা ও ফুটপাত থেকে কয়েকশ হকারের অস্থায়ী দোকান ও রাস্তার ওপর নির্মিত ছাউনিগুলো ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

‎দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম প্রধান রাস্তার ওপর হকাররা বসায় যানজট লেগেই থাকত। পথচারীদের চলাচল করতে হতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। সাধারণ জনগণ এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে পুনরায় যাতে আগের অবস্থায় ফিরে না আসতে পারে তার জন্য তদারকি দরকার বলে জানান। সে সঙ্গে এসব গরিব হকারদের দিকে খেয়াল রাখতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান অনেকে। অনেক হকার দাবি জানান, নির্দিষ্ট জায়গা করে দেওয়া জন্য।

এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত চায়ের দোকানদার শহীদ বলেন, আমরা গরিব মানুষ, কি করে খাব। দোকানটি ভেঙে দেওয়ায় পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটাতে হবে। কীভাবে সংসার চালাব সেই চিন্তায় আছি।

‎পোশাক বিক্রেতা জসিম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে আসছি। এখন আমাদের দোকান উচ্ছেদ করায় চরম বিপাকে পরতে হবে। বয়স্ক মা ও পরিবারকে নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পরতে হবে।

‎এলাকার বাসিন্দা রুবেল বলেন, মেইন রোড ও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এঁরাও তো গরিব মানুষ। এঁদের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তাই হকারদের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত।

অনেক হকার অভিযোগ করেন, আমাদের আগে জানানো হয়নি। তাহলে আমাদের মালামাল ও দোকানের ক্ষয়ক্ষতি হতো না। এ ব্যাপারে অভিযানে থাকা পুলিশের পেট্রল ইন্সপেক্টর গাজী মুসা বলেন, আমরা তিন দিন যাবৎ মাইকিং করে হকারদের সরে যেতে বলি। কিন্তু তাঁরা কোন কর্ণপাত করেননি। তাঁদের অভিযোগ সঠিক নয়।

‎অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী শ্যামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, হকাররা যেন পুনরায় বসতে না পারে সে জন্য আমরা নিয়মিত মনিটরিং করব।

‎এ ব্যাপারে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত ৬-৭ বার এঁদেরকে উচ্ছেদ করেছি। এবারের উচ্ছেদ ভিন্ন ধরনের। এঁদেরকে পুনরায় আর বসতে দেওয়া হবে না। আজকের অভিযানে শুধু হকার উচ্ছেদই হয়নি, সরকারি জমিতে নির্মিত কিছু দোকানও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

‎সকাল ১০টা থেকে শুরু করে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে এই উচ্ছেদ অভিযান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd