টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘিরে পর্যটকদের আগাম বুকিংয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে বান্দরবানের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো।
আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন আবাসিক প্রতিষ্ঠানে ৭০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
কোনো কোনো হোটেলে শতভাগ কক্ষ বুকিং হওয়ায় শেষ মুহূর্তে আবাসন পাওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন ভ্রমণপ্রত্যাশীরা।
হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের অবকাশকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি এ জেলায় পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে। এর সঙ্গে ২৫ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা থাকায় পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকদের আগেভাগেই আবাসন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
কোথাও শতভাগ, কোথাও ৪০ শতাংশ বুকিং
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবরের জন্য বান্দরবানের আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বুকিংয়ের হার একেক রকম। কোনো হোটেলের সব কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে, আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে এখনো কিছু কক্ষ খালি রয়েছে।
হোটেল গার্ডেন সিটির মালিক জাফর উল্লাহ জানান, তাদের হোটেলে ২৫টি কক্ষ রয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সব কক্ষের বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। এর আগের দিনগুলোতেও প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।
হোটেল ডি-মোরের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার মংচিং মারমা বলেন, তাদের হোটেলে চার হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন শ্রেণির ৪৭টি কক্ষ রয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২৩ অক্টোবরের জন্য গড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে।
হোটেল গ্রিন ল্যান্ডের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার মাহাবুব জানান, তাদের হোটেলে দুই হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা মূল্যের ২৭টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবরের জন্য প্রায় ৪০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে।
অন্যদিকে, হোটেল স্কাই ব্লুর ম্যানেজার মামুন বলেন, তাদের হোটেলে এক হাজার ২০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের ২৬টি কক্ষ রয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবরের জন্য সব কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালির ম্যানেজার সুমন জানান, তাদের হোটেলে দুই হাজার ৫০০ থেকে ছয় হাজার টাকা মূল্যের ৪৬টি কক্ষ রয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২৩ অক্টোবরের জন্য এসব কক্ষের ৯০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। গ্রাহকদের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মূল্যছাড়ও দেওয়া হচ্ছে।
পর্যটক বাড়ার প্রত্যাশা, প্রস্তুতি নিচ্ছে হোটেল কর্তৃপক্ষ
বান্দরবান হোটেল ওনার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন বলেন, সারা বছরই বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলোতে কমবেশি পর্যটকের আনাগোনা থাকে। তবে বিশেষ ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এবার দুর্গাপূজার ছুটিতেও আশানুরূপ পর্যটক সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আগত পর্যটকদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে যারা বান্দরবান ভ্রমণে আসতে চান, তাদের আগেই আবাসন নিশ্চিত করা উচিত।
নিরাপত্তায় প্রস্তুত ট্যুরিস্ট পুলিশ
ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) ফরিদ উদ্দীন বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে বান্দরবানে প্রচুর পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পর্যটন স্পটগুলোতে ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
সব মিলিয়ে দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের পর্যটন খাতে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে বুকিংয়ের হার প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হওয়ায় পর্যটকদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী হোটেল নির্বাচন এবং আগাম বুকিং নিশ্চিত করাই হবে নির্বিঘ্ন ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।