• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ

৪০ হাজার বাহিনী নামিয়েও আটকানো গেল না ককরোচের, চাপে মোদি সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি / ২৬ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

দিল্লিকে দুর্গ বানিয়েও শেষরক্ষা হল না। যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন ঠেকাতে প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, হাজার হাজার মানুষকে আটক, মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ কোনও কিছুই শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের অস্বস্তি আড়াল করতে পারল না। 

 

 

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাল রাজধানী। রোববার আন্দোলনের তিন প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা মুক্তি পেয়েছেন। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

আন্দোলনের সূত্রপাত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং তার ফলে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে সিজেপি। নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শনিবার যন্তর মন্তরে কর্মসূচির অনুমতি না দেওয়ার পর দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশি বাধা, ব্যারিকেড এবং ধরপাকড় শুরু হয়। হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং আটক ব্যক্তির সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়ায়।

আন্দোলনের তিন প্রধান মুখকে দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরই আটক করা হয়। অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হন আন্দোলনকারীরা। রবিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে তাদের মুক্তির নির্দেশ দেয়। কিন্তু মুক্তির পর আন্দোলন থামানোর কোনও ইঙ্গিত দেয়নি সিজেপি। বরং তাদের বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। আন্দোলন দমনের প্রশ্নে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে।

রোববারের শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দেয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের নামে কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা চলবে না। মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ইন্টারনেট চালু করা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথে অপ্রয়োজনীয় বাধা সরানোর নির্দেশ দেয় আদালত। ৩০৩টি মেট্রো স্টেশনের মধ্যে ৪৫টি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চেয়েছে আদালত। অর্থাৎ, নিরাপত্তার যুক্তিতে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিচারবিভাগীয় পরীক্ষার মুখে।

বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে দিল্লির বাইরেও। মুম্বাইয়ে আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আন্দোলনের সমর্থনে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় অভিনেতা ইমরান খান-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। বেঙ্গালুরুতেও প্রতিবাদ হয়েছে। দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকারের মতো চার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করার ঘটনা বিরোধীদের ক্ষোভ আরও বাড়ায়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়ে আন্দোলন দমনের রাজনীতির সমালোচনা করেছেন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তরুণদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের যুবকদের নিয়ে তিনি গর্বিত এবং তাদের পাশে বিরোধীরা রয়েছে।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও বিরোধীদের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রতিবাদের আবহে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, অভিজিৎ দীপকে ও তার সহযোগীদের বক্তব্য, আটক করে কিংবা ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। ধ্রুব রাঠিও আটক হওয়ার পর পুলিশের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

সিজেপির সংগঠক অজিঙ্কা শিন্ডে জানিয়েছেন, বাধা এলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। মোদি সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জটা তাই শুধু একটি বিক্ষোভ সামলানোর নয়। ভোটার তালিকা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নাগরিকের প্রতিবাদের অধিকার এবং প্রশাসনের জবাবদিহি সব প্রশ্ন একসঙ্গে সামনে এসেছে। ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী নামিয়েও যে রাজনৈতিক অসন্তোষকে পুরোপুরি আটকে রাখা যায়নি, তা স্পষ্ট। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এখন কেন্দ্রকে শুধু নিরাপত্তার যুক্তি নয়, নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নেও জবাব দিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd