• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ? ইসলামের বিধান কী

মোঃ মাইনুল হোসেন মঈন / ৫০ Time View
Update : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

ইসলামে বিয়েকে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও পারিবারিক বন্ধনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

 

 

সামর্থ্যবান যুবকদের যথাসময়ে বিয়ের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে তিনি বিয়েকে দৃষ্টি সংযত রাখা ও পবিত্রতা রক্ষার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

তবে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর সম্মতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের মতামত উপেক্ষা করে তাদের বিয়ে দেওয়ার সুযোগ ইসলামী শরিয়তে নেই। বিয়েতে প্রস্তাব ও গ্রহণের পাশাপাশি সাক্ষীর উপস্থিতিও প্রয়োজন।

 

 

 

 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা নারীর মতামত ছাড়া এবং কুমারি নারীর অনুমতি ছাড়া তার বিয়ে দেওয়া যাবে না। কুমারি নারীর ক্ষেত্রে তার নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করার কথাও হাদিসে এসেছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৬)

 

সন্তানের অমতে বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বোঝাতে আরও একটি ঘটনা পাওয়া যায়। খানসা বিনতে খিজাম (রা.)-কে তার বাবা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি সেই বিয়েতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। বিষয়টি নবী (সা.)-কে জানালে তিনি বিয়েটি বাতিল করে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৮)

 

আরেক বর্ণনায়, এক নারী অভিযোগ করেন যে তার বাবা নিজের মর্যাদা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তাকে তার ভাতিজার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি ওই নারীর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেন—তিনি চাইলে বিয়ে বহাল রাখতে পারবেন, আবার চাইলে তা প্রত্যাখ্যানও করতে পারবেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৭৪)

 

 

 

 

ইসলামী আইনবিদদের আলোচনাতেও সন্তানের পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, বাবা-মায়ের উচিত নয় এমন কোনো মেয়ের সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেওয়া, যাকে সে পছন্দ করে না। ছেলে এমন বিয়ে প্রত্যাখ্যান করলে তাকে অবাধ্য হিসেবে গণ্য করা হবে না।

 

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহও এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, সন্তানের অনিচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে বিয়ে দেওয়ার অধিকার বাবা-মায়ের নেই। ছেলে বা মেয়ে রাজি না থাকলে শুধু অভিভাবকের ইচ্ছায় বিয়ে দেওয়া ইসলামে বৈধ নয় বলে তিনি মত দেন।

 

তবে বিয়ের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের পরামর্শ ও সন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সন্তানদেরও অভিভাবকদের সঙ্গে সম্মানজনকভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। আর কোনো বিয়েতে জোরজবরদস্তি বা চাপ প্রয়োগের পরিস্থিতি তৈরি হলে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেম বা ইসলামী আইনজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd