• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
এটিএম কার্ড সহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ ৩০ টি ব্যাংকের ঢাকার পথে প্রথম কার্গো জাহাজ , ভারত ভাগের ৭০ বছর পর। লাওস ভিসা বন্ধ করলো বাংলাদেশ কর্মীদের জন্য পুরো সৌদি আরব হামলার জন্য উন্মুক্ত শুধু মক্কা মদিনা ছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহর ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করছে বিকেএমইএ,ও এন সি সি আই এর 22 জন ভলেন্টিয়ার। সৌদিতে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড । হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবমাননা কর পোষ্টের কারণে। মোটরসাইকেল ও গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর শাকিবের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা মনে নেই পরীমণির ভারতের সঙ্গে খোলামেলা সংলাপ চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর

ঢাকার পথে প্রথম কার্গো জাহাজ , ভারত ভাগের ৭০ বছর পর।

বিশেষ প্রতিনিধি / ১৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড়ের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে।

 

 

এই ঘটনাটি ১৯৪৭সালে ভারত ভাগের প্রায় ৭০ বছর পর আসাম থেকে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক বন্দরে সরাসরি পণ্য পরিবহনের সূচনা করেছে।

 

 

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই নৌপথের শুভ উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। অনুষ্ঠানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেড’-এর (এপিসিএল) নামরূপ কারখানায় উৎপাদিত এই মিথানল বাংলাদেশের ঢাকার পানগাঁও নৌবন্দরের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে। জাহাজটি ব্রহ্মপুত্র নদের ‘জাতীয় জলপথ-২’ দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। এরপর ‘ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট’ (আইবিপিআর) ধরে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাবে। বগিবিল থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পণ্যবাহী জাহাজটিকে মোট এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার নৌপথ অতিক্রম করতে হবে।

 

 

 

এই যাত্রাকে মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সংযোগ স্থাপনে ব্রহ্মপুত্র নদ কতটা বাণিজ্যিকভাবে উপযোগী, তা পরখ করে দেখার পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

 

 

 

অনুষ্ঠানে সর্বানন্দ সোনওয়াল বলেন, ‘আমাদের দাদা-দাদিরা ডিব্রুগড় ঘাটে স্টিমারের সিটি শুনে বড় হয়েছেন। দীর্ঘ ৭০ বছর সেই সিটি বন্ধ ছিল, জাহাজ আসাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আজ আবারও ডিব্রুগড় থেকে বিশ্বের উদ্দেশে জাহাজ যাত্রা করল। নদী আমাদের কখনোই প্রতারিত করেনি, অভাব ছিল শুধু এটি পুনরুজ্জীবিত করার রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির।’

 

একসময় পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর ছিল ডিব্রুগড়। ১৮৫৬ সালের মধ্যেই তৎকালীন কলকাতা থেকে সরকারি স্টিমারগুলো এখানে পৌঁছাত। ১৮৮২ সালে ডিব্রুগড় স্টিমার ঘাট থেকে চালু হয় ‘ডিব্রু-সাদিয়া রেলওয়ে’। ১৯১৩ সালের মধ্যে চা, কাঠ ও যাত্রী নিয়ে প্রতিদিন স্টিমার চলাচল করত এই ঘাটে।

 

 

 

তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এই ঐতিহ্যবাহী নৌপথকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে আসামের পণ্য কলকাতায় পৌঁছাতে বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করতে হতো। এরপর ১৯৫০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ডিব্রুগড়ে নদীর তলদেশ পরিবর্তিত হয়ে যায়। ধীরে ধীরে চা পরিবহন রেলপথে স্থানান্তরিত হওয়ায় ১৯৫৪ সালে ডিব্ৰুগড় ঘাট থেকে নিয়মিত বুকিং বন্ধ হয় এবং ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ঘাটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

 

 

এর দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, ১৯৭২ সালে ভারত ও বাংলাদেশ একটি নদী বাণিজ্য প্রোটোকল স্বাক্ষর করে। ১৯৮৮ সালে সাদিয়া থেকে ধুবড়ী পর্যন্ত ৮৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রহ্মপুত্র নদকে ‘জাতীয় জলপথ-২’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd