• রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
রাজশাহীতে ডেঙ্গুতে আরও এক নারীর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২৭ কুমিল্লায় এবার কিশোর গ্যাং লিডার রতনসহ আটক ৩৬৩ না জানিয়ে অন্য শহরে ভ্রমণ, শাস্তি পাচ্ছেন বাংলাদেশের ৩ ক্রিকেটার ভুট্টার রাজধানী হবে লালমনিরহাট: ত্রাণ মন্ত্রী আদালতের নৃশংস হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা স্যূপের পাত্রে মিলেছে মডেলের খুলি সাবরেজিস্টারদের পোস্টিং এ লটারির ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের কঠিন গ্রুপে ২৯ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে বন্ধো মিটারে ২০ ইউনিট দেখি বিল করেছে বহুল প্রত্যাশিত আলীর টেক -বক্তা বলী সেতু ডিগ্রীর চর খেয়াঘাট দিয়ে হচ্ছে। বাংলাদেশ সহ ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের বৈঠক দিল্লিতে

লেবানন-ইসরায়েল চুক্তি যেভাবে পরের যুদ্ধের পথ তৈরি করছে

Reporter Name / ১৯৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তি হলেও যুদ্ধের ক্ষত কি শুকাবে

 

ফলে লেবাননের কাছ থেকে এমন জায়গায় সার্বভৌম রাষ্ট্রের মতো আচরণ আশা করা হচ্ছে, যেখানে তার সক্ষমতা সবচেয়ে দুর্বল। তাকে এমন সশস্ত্র গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হচ্ছে, যাদের পরাজিত করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাকে এমন শত্রুর সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হচ্ছে, যাকে সে প্রতিরোধ করতে পারে না। তাকে এমন দায়িত্ব নিতে বলা হচ্ছে, যার বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সেই শক্তিগুলোর ওপর, যারা লেবাননের সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেয় না।

 

সামরিকভাবে লেবানন ইসরায়েলের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে না। তাই তার হাতে যে কয়েকটি অস্ত্র আছে, তা হলো কূটনৈতিক, আইনি ও রাজনৈতিক ক্ষেত্র। যদি ‘উত্তেজনা কমানো’র নামে এই ক্ষেত্রগুলোও সীমাবদ্ধ করা হয় (যেমন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করা), তাহলে রাষ্ট্রকে সেই জায়গাতেই নিরস্ত্র করা হচ্ছে, যেখানে তার কিছুটা শক্তি এখনো আছে।

 

এর সঙ্গে রয়েছে সাংবিধানিক জটিলতা। তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী হয়তো এই দলিলকে বাধ্যতামূলক চুক্তি নয়, বরং রাজনৈতিক বোঝাপড়া হিসেবে তুলে ধরতে চাইবেন। কিন্তু নাম বদলালেই বাস্তব বদলায় না। যদি এতে যুদ্ধ, শান্তি, ভূখণ্ড, আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা, নিরাপত্তা, স্বীকৃতি বা আইনি সীমাবদ্ধতার মতো বিষয় থাকে, তবে এটি নিছক কূটনৈতিক কাগজ নয়।

 

লেবাননের সংবিধান কোনো একক ব্যক্তিকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেয় না। আন্তর্জাতিক চুক্তির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন। যুদ্ধ ও শান্তি–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার আওতায় পড়ে এবং বড় সিদ্ধান্তের জন্য একাধিক স্তরের সম্মতি দরকার।

 

কিন্তু এই ‘ইচ্ছাপত্র’ ব্যবহার করে যদি চুক্তির মতো দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা সংবিধানের সুরক্ষাব্যবস্থাকে পাশ কাটানোর শামিল। লেবাননের সংবিধান রাষ্ট্রকে তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার নির্দেশ দেয়। ফলে এমন কোনো ঘোষণা গ্রহণযোগ্য নয়, যা চুপিসারে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উপস্থিতিকে স্বাভাবিক করে তোলে বা লেবাননের সার্বভৌমত্বকে ইসরায়েলের মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল করে।

 

এ জায়গাতেই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বিস্ফোরক হয়ে ওঠে। হিজবুল্লাহ, আমাল আন্দোলন ও তাদের মিত্ররা সহজেই এ প্রক্রিয়াকে বিলম্বের জালে ফেলতে পারে। তারা যুক্তি দিতে পারে, এটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন। তারা প্রশ্ন তুলতে পারে, এটি কি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ? তারা ইসরায়েলের প্রত্যাহার নিয়ে স্পষ্টতা চাইতে পারে। আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার অধিকার সীমিত করার বিরোধিতা করতে পারে। সব মিলিয়ে বিষয়টি কমিটি, বিতর্ক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতায় আটকে যেতে পারে।

 

● সামি হালাবি বৈরুতভিত্তিক নীতি-গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘বাদিল: দ্য অল্টারনেটিভ পলিসি ইনস্টিটিউট’-এর নীতি পরিচালক

 

আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd