প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১১:১২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
মহানবীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, জাবিতে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈকত হালদারকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা চার দফা দাবি জানান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।
মিছিলে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম লিখন বলেন, অভিযোগটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে দায় প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা ৪ দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে সৈকত হালদারের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ী বহিষ্কার ও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা, একই বিভাগের শিক্ষার্থী বন্ধন কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুনরায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া, হিম উৎসব-২০২৬-এ ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ নিষ্পত্তি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো। পাশাপাশি ধর্মীয় অবমাননার ঘটনায় স্থায়ী বহিষ্কারের বিধান রেখে কঠোর নীতিমালা তৈরির দাবিও জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামসুল আলম প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি দাবিগুলোকে যৌক্তিক বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের সত্যতা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তদন্তপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ন্যায়বিচারের দাবি যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ, হুমকি কিংবা সহিংসতার রূপ না নেয়। তারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি এবং ভবিষ্যতে ধর্মীয় অবমাননা ও পারস্পরিক বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
উল্লেখ্য, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সৈকত হালদারকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগটি তদন্তে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬