নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উত্তর মাসদাইর-গাবতলীসহ ৯নং ওয়ার্ড এলাকায় ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের দাবি, মামলাটি হয়রানিমূলক এবং কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে তার বাস্তব ভূমিকার মিল নেই। তাকে আরো এক মাস আগে গ্রেফতার করা হয়। তিনি এখন কারাগারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কামরুল হাসান দলমত নির্বিশেষে একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তিনি টানা তিনবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বলে এলাকাবাসী জানান। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, বিচার-সালিশ এবং নাগরিক সংকটে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
করোনাকালেও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে স্থানীয়দের কাছে কামরুল হাসান ‘করোনা যোদ্ধা’ হিসেবেও পরিচিতি পান। মহামারির কঠিন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখনও এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচিত।
স্থানীয়দের আরও দাবি, কামরুল হাসান কখনো আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন না। কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবিতে থাকার চেয়ে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় তারা বিস্মিত হয়েছেন।
সম্প্রতি কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তর মাসদাইর, গাবতলীসহ ৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, একজন জনপ্রিয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এভাবে মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করার আগে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বাস্তবতা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন ছিল।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, কামরুল হাসান আসলে কতটা জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি—তা জানতে হলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরেজমিনে ৯নং ওয়ার্ডের মানুষের সঙ্গে কথা বলা উচিত। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেই তার দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, জনপ্রিয়তা এবং মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্পর্কে বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয়রা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে কামরুল হাসান একজন জনপ্রতিনিধি। নির্বাচনে বারবার বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার বিষয়টিও তার প্রতি এলাকার মানুষের আস্থার প্রতিফলন। তাই তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, তদন্তে যদি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা না পাওয়া যায়, তাহলে তাকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে এবং মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের ভাষায়, কামরুল মেম্বারকে তারা কোনো দলের নেতা হিসেবে নয়, বরং এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবেই দেখতে চান।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক, প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক।