ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এবার মাঝ সমুদ্রে ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস বেনফোল্ড'।
টানা চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরে ভেসে থাকা রণতরিটিতে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও সচল শৌচাগারের অভাবে তীব্র দুর্ভোগে পড়েন এতে থাকা প্রায় ৩০০ সেনাসদস্য।
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন (01778998433)
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ সুবিধাসহ জরুরি জীবনরক্ষাকারী পরিষেবাগুলো পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। এতে পেন্টাগনের সামরিক সক্ষমতা ও সেনাসদস্যদের আবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন (01778998433)
সেনাসদস্যদের আবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে জোর সমালোচনা শুরু হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।
মার্কিন নৌবাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার ম্যাথিউ কোমার জানান, গত ২৪ জুলাই প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়মিত টহলের সময় ইউএসএস বেনফোল্ডের মূল জেনারেটরে বড় ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। এতে জাহাজটির অভ্যন্তরীণ সার্বিক বিদ্যুৎব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। জরুরি পরিস্থিতিতে জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত অপর ক্রুজার 'ইউএসএস রবার্ট স্মলস' থেকে দুর্ঘটনাকবলিত ডেস্ট্রয়ারটিতে খাদ্য ও পানীয়সহ প্রয়োজনীয় সহায় সামগ্রী পাঠানো হয়।
পরবর্তী সময়ে জাহাজটিকে টেনে ফিলিপাইনের সুবিক উপসাগরে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ চার দিনের দুর্ভোগ শেষে গত ২৮ জুলাই এটি বন্দরে পৌঁছালে নাবিকদের নিরাপদে তীরে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ শেষে গত ৮ আগস্ট যুদ্ধজাহাজটি পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসে।
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন (01778998433)
মাঝ সমুদ্রে শক্তিশালী এই ডেস্ট্রয়ার অচল হয়ে পড়ার খবরটি এমন সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যখন ২৫০ দিন ধরে সমুদ্রে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'-এর ভেতরে তীব্র খাদ্য সংকট ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রীর অভাবে নাবিকদের চরম মানসিক বিপর্যস্ততার খবর সামনে এসেছে।
ইতিমধ্যেই আব্রাহাম লিংকনের এই শোচনীয় পরিস্থিতি তদন্তের জন্য মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে, যার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রধান বিমানবাহী রণতরির উপস্থিতি থাকছে না।